ঢাকা , শনিবার, ০২ মে ২০২৬ , ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দিনাজপুরে টেস্টি ট্রিটের খাবার খেয়ে হাসপাতালে অর্ধশতাধিক

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৫:২৯:৫১ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ০২-০৫-২০২৬ ০৫:৩০:৩৮ অপরাহ্ন
দিনাজপুরে টেস্টি ট্রিটের খাবার খেয়ে হাসপাতালে অর্ধশতাধিক ​ছবি: সংগৃহীত
দিনাজপুরে ‘টেস্টি ট্রিট’ নামে একটি ফাস্টফুডের দোকানের খাবার খেয়ে প্রায় অর্ধশতাধিক শিশু, নারী ও পুরুষ অসুস্থ হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। খাদ্যে বিষক্রিয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শনিবার (২ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুরুন্নবী। তিনি জানান, এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে একটি মামলা করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দোকানে অভিযানও চালানো হয়েছে।

জানা গেছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিনাজপুর গাক চক্ষু হাসপাতালের একটি সেমিনারে বড় মাঠ-সংলগ্ন টেস্টি ট্রিটের শোরুম থেকে স্যান্ডউইচ, রোলসহ বিভিন্ন খাবার সরবরাহ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত নারী-পুরুষ ও শিশুদের মধ্যে এসব খাবার পরিবেশন করা হয়। খাবার খাওয়ার পরপরই সন্ধ্যার মধ্যে অনেকের বমি, ডায়রিয়া ও পেটব্যথাসহ বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়।

তাৎক্ষণিক আক্রান্তদের মধ্যে ৯ জনকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, ১৫ জনকে দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে এবং ৫টি শিশুকে অরবিন্দ শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে আরও অনেকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এদের মধ্যে এক গর্ভবতী নারীসহ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

টেস্টি ট্রিটের খাবার খেয়ে দিনাজপুরে বিভিন্ন হাসপাতালে যারা ভর্তি হয়েছেন, তারা হলেন- ডা. এস এম বরাত উল ইসলাম, ফারিহা নাজমিন, মো. মোজাহিদুল ইসলাম, সুমন ইসলাম, হাবীবুর রহমান, রেশমা খাতুন, ঝর্না বেগম, ইতি মনি, খুরশীদ জাহান, রওশনা আরা, আতিকা ইয়াসমিন যথি, সোহায়ার্দী হোসেন রুবেল, নুর আলম, ফাতেমা খাতুন, হুসনে আরা, রুকনুজ্জামান সিহাব, দিলশাদ জাহান দিবা, শাহিদা, জীবন, রথিকা রানী, ভাস্কর, পলি, প্রান্ত, কৃষ্ণ রায়, আলবিনা বর্ষা, আয়শা, বানী রায়, রিপন, লুবান, লাবিব, জাহিদ, ইতি, মুরসালিন, রুবিনা, শিউলী, নুরনাহার, তামান্না, শাহিনা, রাব্বি, রবিউল, নাজিফা, ফাইয়াদ, আসফিয়া, তাওসি, আরাফাত ও আরিফা।

এ ছাড়াও একই ঘটনায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে কর্মরত ডা. মো. আশিক আরমান খান, ডা. মো. মোহাসেনুল ইসলাম এবং নার্গিস আরা নিজ নিজ বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

আক্রান্তদের একজন ডা. এস. এম. বরাত উল ইসলাম জানান, খাবার খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই বমি ও পাতলা পায়খানা শুরু হয়। পরে শারীরিক অবস্থা খারাপ হলে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। একাধিক স্যালাইন নিতে হয়েছে।

দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি সুলতানা  জানান, স্যান্ডউইচ ও রোল খাওয়ার পরপরই তাদের পেটে সমস্যা শুরু হয় এবং দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এ ঘটনায় টেস্টি ট্রিটের সেলসম্যান মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযোগ ওঠা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পেলে প্রকৃত কারণ জানা যাবে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।’

দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মিজানুর রহমান জানান, অভিযানে দোকান থেকে কিছু নষ্ট খাবার জব্দ করা হয়েছে এবং নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দূষিত বা পচা খাবারের কারণেই এ ঘটনা ঘটেছে।

দিনাজপুর নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা গৌরব কুমার সাহা বলেন, ‘টেস্টি ট্রিটের স্যান্ডউইচ ও রোল উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দিনাজপুরের সিভিল সার্জন ডা. আসিফ ফেরদৌস জানান, আক্রান্তদের অধিকাংশই এখন চিকিৎসাধীন। অনেকের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে এটিকে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এইচএইচ/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ